Tuesday, March 21, 2017

আজকে থেকেই

 আজকে থেকেই

যাকে ঘৃনা করি তাকে আজ থেকে ঘৃনা করবো না। ঘৃনা আমরা করি কেন ? কারণ আমাদের সাথে কারো না মিললে বা কারো আচরণ আমাদের আচরণের মত না হলে আমরা একটু একটু ওই মানুষটাকে খারাপ পেতে শুরু করি। এই খারাপ লাগা থেকে জগতের সবচেয়ে ঘৃণ্য জিনিসটার উদ্ভব ঘটে আমাদের মাঝে আর সেটা হচ্ছে অন্যকে ঘৃনা করা।  আমরা বুঝতে চাইনা যে এই ধরণীর প্রত্যেকটা মানুষই আলাদা। সবাই যার যার মতো। আর যে ঘৃনা পুষে রাখে সে কখনো শান্তিতে থাকতে পারে না।

আজ থেকে যাকে যাকে টেক্সট করতাম না তাকে টেক্সট করবো। আপনার একটা ইগো বা অহংকার বিসর্জিত একটা টেক্সট আরেকজনের খুশির কারণ হতে পারে। আপনার শুধু হ্যালো ,কেমন আছিস টেক্সটগুলি আরেকজনের একটা দিন আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারে।

আজ থেকে যাকে অবহেলা করতাম তাকে ভালোবাসবো। ভালোবাসলে মনের গহীনে পবিত্রতার জন্ম হয়। যে আমাকে ভালোবাসে না তাকেও ভালোবাসবো।

আজ থেকে আরো একটু নরমভাবে হাঁটবো,কথা বলবো। আরো একটু নরমভাবে বসবো। বসার মাঝে বড়ত্ব ,কথার মাঝে নিজের মহত্ব আর চলার নিজের আমিত্ব দেখাবো না। আজ থেকে খুব মনোযোগ সহকারে মানুষের কথা শুনবো। সব মানুষকে গুরুত্ব দিব।

আজ থেকে বই পড়বো। বাসে,ট্রেনে অথবা অন্য কোনো অলস সময়ে। বই আমাদের সব অন্ধকার  দূর করে দিয়ে সুন্দরের দিকে ডাকে।

আজ থেকে পরিবার,বন্ধুবান্ধব,অতীয়স্বজন,প্রতিবেশী ও সমাজ নিয়ে খানিকটা ভাববো। এদের অনেক অবদান আছে আমাদের উপর।আজ থেকে রিস্কাওয়ালাকে বয়স অনুযায়ী ভাই-ভাতিজা-চাচা বলে সম্মোধন করবো।

আজ থেকে গ্রামের পথ বেয়ে হেঁটে যাওয়া মেয়েটির দিকে চেয়ে বেগম রোকেয়ার বা সুফিয়া কামালের উত্তরসূরী বলে মনে মনে বিড়বিড় করবো। আজ থেকে নিজের থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট ছেলেটাকে তুই বলে ডাকবোনা কারণ তুমি বললে সে খুশি হবে।

আজ থেকে বাসায় গিয়ে ফেসবুক নিয়ে বসে সময় নষ্ট করবো না। চুটিয়ে জগড়া করবো করবো ভাইবোনের সাথে কারণ জগতের সুন্দরতম দৃশ্য ভাইবোনের জগড়া।

আজ থেকে তরকারীতে চুল পেলে মায়ের উপর রাগ করবো না কারণ তিনি ইচ্ছে করে ফেলেননি চুলটা। আর রান্নার সময় যা কষ্ট হয় তা এক চুলের কারণে উপেক্ষিত হয়ে গেলো ?

বাবার সাথে কথা কাটাকাটি করবোনা কারণ একমাত্র বাবারাই চায় ছেলেটা জগৎ বিখ্যাত হোক। একমাত্র বাবারা চায় তার ছেলেটা তার নিজের থেকে উপরে উঠুক।

আজ থেকে সব বিনাশকারী জিনিস থেকে দূরে থাকবো কারণ আমরা যখন যার যা ক্ষতি বা বিনাশ করি সবকিছুই আমাদের কাছে চলে আসে এক সময়।

আজ থেকে নিজের মনের বিরুদ্ধে যাবো যখন মন খারাপ কিছু উস্কে দেয়ার চেষ্টা করবে। আজ থেকেই আমি মানুষ হওয়ার সংকল্প করবো। 

Monday, March 20, 2017

আমার বিলাসিতা

একদিন যেগুলোকে খুব করে অবহেলা করেছি আজ এগুলিই স্বপ্নের ঘোরে চলে আসে। এইগুলো আজ বিলাসিতা। প্রায় অধরা।

এই যেমন গ্রামের পথ বেয়ে হেঁটে যাওয়া। ফেসকুকিং অথবা গুগলিং করতে গিয়ে ভাইবোনকে সময় কম দেয়া।  অথবা তিন বছর আগে প্রেমে পড়া মেয়েটিকে সময় দিতে গিয়ে নিজের পরিবার তথা আম্মুকে কম সময় দেয়া।

আহা জীবন আমরা বুঝিনা ,বুঝতেও পারবো না।


Saturday, March 18, 2017

মন খারাপ

 মন খারাপ হলে তা উদযাপন করা। এটা আমার নিজেরই কথা।  আজকে মনে হচ্ছে এই রকম একটা উদযাপন দরকার। খুব দরকার কারণ অনেক দিন এই রকম উদযাপনের দরকার হয় নি।

ইট-পাথরের এই শহরে সবই আছে ,মন খারাপ করে একলা এক জায়গায় বসে থাকার স্থান নেই ।


Thursday, March 16, 2017

Hizbur's second book -আপনিও সফল হবেন

বড় কলেবরের বই এই বছর শেষে আসতেছে। লিখা শুরু করবো আজ থেকেই। এই বইতে যে অক্ষমতা আমার ফুটে উঠেছে সেটা হচ্ছে বইটা বড় হয়নি। আমার আবেদন আপনাদের কাছে বইটা পড়ার জন্য। ভুলগুলো আপনাদের কমেন্টে পরিণত করেন আর আমাকে একটু একটু করে একজন সফল লেখকে পরিণত করেন। 

ডাউনলোড করেন নিচের লিংক থেকে। 

আপনিও সফল হবেন  - PDF



Friday, March 10, 2017

আমাদের মানুষ হওয়া


আদর্শ ছেলে
– কুসুমকুমারী দাশ
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ?
মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন
“মানুষ হইতে হবে” — এই তার পণ,
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান,
নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ?
হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়,
চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয় ?
সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়,
আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায় |
সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ —
“মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন” |
কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার
সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার,
হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান
তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ |

বড় বড় কথায় কেউ বড় হয় না,কাজ দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। এই সুন্দর জীবনে সমস্যা আছে ,আছে তার সাথে সমাধান ও। বিপদে শক্ত থাকতে কবি সাহস দিয়েছেন।যারা চিন্তা করতে পারে তারা থেমে থাকে না ,তারা পথ ঠিকই বের করে নেয়। বীরু ও নির্জীব মানুষকে কেও চায় না আর চাইবেই বা কেন। এখানে বীরু বলতে কবি আত্মবিশ্বাসহীনতাকে বুঝিয়েছেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। এখানে কাজ বলতে কবি শুধু কাজকে বুঝান নি। এখানে কাজ মানে স্বপ্ন,ইচ্ছে আর গন্তব্য কেও বুঝিয়েছেন। সমগ্র কবিতায় কবি যে জিনিসটা খুব সূক্ষভাবে জুড়িয়ে দিয়েছেন তা হচ্ছে আমাদের মানুষ হওয়া।

এই কবিতার আট লাইন ১০ মার্কসের জন্য বরাদ্ধ ছিল। শিক্ষকরা (সবাই না ) ও পার পেয়ে যেতেন কোনোভাবে মুখস্থ করাতে পারলে। এই কবিতাগুলোর মধ্যে যে মানুষ হওয়ার ব্যাকুল আবেদন তা আমরা নিতে চাইনি বলে আমরা অনেকেই আজ ও পুরোপুরি মানুষ হতে পারলাম না। 

"মানুষ হওয়া " আবার কি ? আমরা তো মানুষ আছিই অনেকেই এটা ভাবি। মানুষ হওয়া নিয়ে কেন এত এত লিখলেন কবি-লেখকরা বা লিখতেছেনই বা কেন ? 

Sunday, January 15, 2017

সততার গল্প


 সততার গল্প 
সাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,বালিয়াকান্দি ,রাজবাড়ী। 

জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ ভালোমন্দ বা সৎ হয়ে জন্মায় না। সৎ মানুষকে হতে হয়।  ঠিক তেমনি জগতের খারাপ মানুষগুলো ও খারাপ হয়ে জন্মায়নি। আমরা সবাই এক সময় নিষ্পাপ ছিলাম অর্থাৎ সবাই এক বিন্দু থেকে শুরু করেছিলাম। মানুষকে আমি প্রকৃতির সাথে তুলনা করি। প্রকৃতি যেমন উজাড় করে দেয় আবার হিংস্র হলে সব কিছু কেড়ে নিতে দ্বিধাবোধ করে না। প্রকৃতি দেয় বেশি,কেড়ে নেয় খুব কম। ঠিক একইভাবে মানুষ উদার আর হিংস্র। যাইহোক ,একটা শিশু প্রকৃতি থেকে শিখে। যা দেখে তা থেকে শিখে। যা করতে দেয়া হয় তা থেকে শিখে। আমাদেরকে ওই ছোট্টবেলায় যখনই বলা হয়েছে  'এটা করো না ,এটা করা টিক না ,আল্লাহ মারবে ' । বিশ্বাস করেন আমরা অনেকেই ওই নিষেধ করা জিনিসগুলি আজও করি নাই।আমরা যে যেভাবে বড় হয়েছে ঠিক সে সেভাবে চিন্তা করতে শিখি। 

এই সততা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম স্যার অনবদ্য একটা কাজ করেছেন ।উনার ভাষায়, "যে অপরকে ফাঁকি দেয় সে নিজেকে ফাঁকি দেয় " - । একটা  শিশু দোকানদারের অনুপস্থিতে একটা জিনিস কিনবে আর টাকা রেখে যাবে আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় হয়ে উঠবে দিকবিজয়ী আগামীর সৎ প্রজন্ম।আমার আপনার সুন্দর চলাফেরায় সমাজ সুন্দর হয় আর সুন্দর সমাজে জন্ম নেয়া এই আমরা মানুষে পরিণত হই। 

Wednesday, January 11, 2017

শিক্ষা

শিক্ষা এমন একটা সম্পদ যা মানুষের সাথে থেকেই যায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। এই সম্পদ নির্জীবকে দেয় সজীবতা আর ঘুমন্তকে জাগ্রত করে। অনেকেই শিক্ষা নামক এই পরশ পাথর থেকে ছুঁয়া না পাওয়ার করার কারণ হিসেবে মা-বাবা ও পরিবারকে দায়ী করে । এই দায় খুব কম ক্ষেত্রে ভূল থাকে আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঠিক। একটা ছেলে/মেয়ে নিজের পূর্ণাজ্ঞ ভালোমন্দ শিখে ১৮ বছরের ধারেকাছে আসার পর। এর আগ পর্যন্ত মা বাবা অথবা পরিবারই সব। প্রত্যেকটা মানুষের পেছনে তার পরিবারের অনেক ছাপ থাকে। এ গেলো শুধু পড়াশুনা। নৈতিকতা ও আরেকটা সম্পদ যা ধরে রাখা বা ধারণ করা সাধনার। এখানেও পরিবারই মুখ্য। আদরের ছোট ভাইটা বা মায়ের ভালোবাসার ছেলেটা/মেয়েটা যেন খারাপ না হয় সে জন্য আমাদের পরিবারগুলোকে আরো সতর্ক হতে হবে। 
ব্রি:দ্র :- কথাগুলো রাজধানীর একটা আলোচিত ঘটনার উপর ভিত্তি করে বলা।